Ads

চট্রগ্রামের রাস্তাগুলো রূপ নেয় খালে, বিপর্যস্ত জনজীবন

রাজু আহমেদ,চট্রগ্রাম

 প্রকাশিত : শনিবার, ১৭ জুন, ২০২৩

বৃষ্টিতে খালে পরিনত চট্রগ্রামের সিংহভাগ রাস্তাঘাট।

টানা ঘন্টা কয়েকের বৃষ্টিতে শনিবার বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রামের নিম্নাঞ্চলে দেখা দেয় ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন এলাকা দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত ডুবে থাকে হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে। এসব এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠে যায়।
Photo: Raju Ahamed

নগরী যেন ভাসছিল পানিতে। সড়কগুলো রূপ নিয়েছিল যেন খালে। বেশকিছু সড়কে বন্ধ হয়ে যায় যানবাহন চলাচল। এসব সড়কে পানির প্রচণ্ড স্রোতে হেঁটে চলাচল করাও হয়ে পড়ে অসম্ভব। ঘর থেকে যারা বের হয়েছিলেন, তাদের পথে পথে পোহাতে হয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ।

বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, অভিভাবক, চাকরিজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না। অনেকে বাসাবাড়িতে দিনভর পানিবন্দি হয়ে পড়েছিলেন। মুরাদপুর ও বহদ্দারহাট  ফ্লাইওভারের নিচে জলাবদ্ধতা ছিল সবচেয়ে সীমাহীন।

দুপুর থেকেই নগরীর নিচু এলাকগুলোয় পানি জমতে শুরু করে। দুপুর নাগাদ নিম্নাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকায় হাঁটু থেকে কোমরপানি জমে যায়। খাল ও নালা ভরাট হয়ে যাওযায় পানি নামতে পারছিল না।

সরেজমিন দেখা যায়, নগরীর ওয়াসার মোড়, বাকলিয়ার চাক্তাই-খাতুনগঞ্জ, আগ্রাবাদ সিডিএ, হালিশহর, অক্সিজেন, বহদ্দারহাট, চকবাজার, মুরাদপুর, ষোলশহর ২নং গেট, চান্দগাঁও, মোহরাসহ নগরীর অনেক এলাকা বৃষ্টির পানিতে জমে যায়। বিভিন্ন স্থানে সড়কে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাশাপাশি ফ্লাইওভার গুলোয়ও জমে বৃষ্টির পানি।
সড়কের কোথাও কোথাও কোমরপানির কারণে যানবাহন চলাচল দূরে থাক, হেঁটেও যাতায়াত করা সম্ভব হচ্ছে না। এমতাবস্থায় রিকশা ও ভ্যানে করে জলমগ্ন এলাকা পাড়ি দিচ্ছেন মানুষ। এ সুযোগে রিকশাচালকরা ভাড়া হাঁকাতে থাকেন ইচ্ছেমতো। ২০ টাকার ভাড়া নিচ্ছেন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। ফলে দেখা দেয় চরম ভোগান্তি।

যানবাহন চালকরা গাড়ি বের না করায় দেখা দেয় গণপরিবহন সংকট। ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে বহু যাত্রী। অনেককে এক-দুই কিলোমিটার পানি মাড়িয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। নগরীর প্রধান সড়কের (মুরাদপুর বিশ্বরোড) ওয়াসা মোড় থেকে বহদ্দারহাট পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা সড়কের পুরোটাই থইথই করছিল পানিতে। অপরদিকে বহদ্দারহাট থেকে চান্দগাঁও মৌলভীপুকুরপাড় পর্যন্ত আরাকান সড়কের প্রায় আড়াই কিলোমিটার ছিল জলমগ্ন।

বহদ্দারহাট মোড়ে পানিতে আটকে পড়া আলিয়া আক্তারের সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘সকাল ১১ টায় নতুন ব্রীজ যাওয়ার জন্য বের হয়েছি। তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও যেতে পারছি না।নতুন ব্রীজ মুখী গাড়ি চলাচল বন্ধ। ফ্লাইওভারের উপরেও জমেছে জ্যাম। বাসায় ফিরে যাব, সেই অবস্থাও নেই। কোমরপানি মাখিয়ে অনেক কষ্টে বহদ্দারহাট পৌঁছেছি। প্রতিবছর বর্ষা এলেই এ অবস্থা হয়। জানি না নগরবাসী এ দুর্গতি থেকে কবে মুক্তি পাবে।’

দুপুর ২ঃ৪৫ এ  মুরাদপুর মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন পোষাক শ্রমিক  রুনিয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা হবে জানলে রাস্তায় বের হইতাম না। বেলা ৩ টা বাজে এখনো অফিসে পৌঁছাতে পারনি। রাস্তায় কোনো গাড়ি নেই। রাস্তার ওপর পানির স্রোত এত তীব্র যে হোঁটেও যাওয়ার সাহস পাচ্ছি না।’ মুরাদপুর মোড়ে কয়েকটি মার্কেটের প্রায় অর্ধশত দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করে। প্রবর্তক মোড়ের কয়েকটি দোকানেও পানি প্রবেশ করে।

মাত্র ঘন্টা কয়েকের বৃষ্টিতে দামপাড়ায় চট্টগ্রাম ওয়াসা, মুরাপুর,বদ্দারহাটে হাঁটুপানি উঠে যায়। আগ্রাবাদ সিডিএ ও হালিশহর এলাকার বিভিন্ন বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠে। এ এলাকায় অবস্থিত মা ও শিশু হাসপাতালের নিচতলায় দেখা যায় হাঁটুপানি। এতে দুর্ভোগে পড়েন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জ-চাকতাই এলাকায়ও পানি উঠেছিল। খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ছগীর আহমদ জানান, খাতুনগঞ্জের কয়েকটি সড়কে পানি উঠেছে। তবে দোকানপাটে প্রবেশ করেনি। চাকতাই এলাকায় কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি প্রবেশ করেছে। যে কোনো মুহূর্তে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

নিউজ ক্রেডিটঃ রাজু আহমেদ 

চাকরির জন্য বিজ্ঞাপন দাতা প্রতিষ্ঠান আপনার কাছ থেকে কোন অর্থ চাইলে অথবা কোন ধরনের ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দিলে অতিসত্ত্বর আমাদেরকে জানান।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.