Ads

একটা ছোট্ট "টিউশনের" গল্প- 'রিজিক'


রিজিক পূর্ব নির্ধারিত, রিজিক দিয়েই মহান আল্লাহ তা'লা আমাদের এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। 



আমি বিকাল ৩.৩০ থেকে রাত ৯.৩০ পর্যন্ত টিউশন পড়াই।পড়াতে যাওয়ার আগে দুপুরের খাবার খেয়ে তবেই রওনা দিই।বাসায় এসে রাতের খাবার খাই।

তো ঘটনাটা কদিন আগের। শরীর তেমন বেশি একটা ভালো ছিলো না।সামান্য জ্বর+মাথা ব্যথাও ছিল।ঋতু বদলাচ্ছে। বুঝতেই পারছেন হালকা জ্বরজ্বর ভাব কমবেশ সবারই হয়।তো ঐদিন সকালের নাস্তা করতেও বেশি একটা ভালো লাগে নি বিধায় নাস্তা করিনি আর দুপুরের খাবারও খাই নি(জ্বর হলে যা হয় আরকি)! 

ভেবেছিলাম কাউকেই পড়াতে যাবো না। একটু বিশ্রাম নিবো।
আপনারা যারা নিয়মিত পড়ান,বিনা কারণে পড়ানোতে কোন গ্যাপ দেন না, দেখবেন হঠাৎ করে ১দিন না পড়ালে ভিতরটা কেমন যেন ছটফট করে। যতই শরীর খারাপ হোক তবুও দেখবেন হঠাৎ পড়াতে না যাওয়ার কারণে মনটা অন্যরকম হয়ে যায়।

তো সেদিন আমারও ওরকমই লেগেছিল। একটা মাথা ব্যথার টেবলেট খেয়ে সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে গেলাম। সারাদিন কোন খাওয়া দাওয়া নেই। ৩.৩০ থেকে বিকাল ৫.০০ টা পর্যন্ত ৭ম শ্রেণির ২ জনকে পড়ালাম। পড়াতে যাওয়ার শুরুর দিকেই নাস্তা দিয়েছিল,মানা করে দিয়েছিলাম। প্রায় দেড় ঘণ্টা বকবক করার পর অবস্থা তো খারাপ।একে তো খাই নি তার উপর বকবক করা। ক্ষুধার জ্বালা তো আর সহ্য হয় না।নাস্তাও তো ফিরিয়ে দিয়েছি।এখন তো আর ঐ নাস্তাও চাইতে পারবো না।ব্যপারটা খারাপ দেখাবে।

যাই হোক এদের পড়ানো শেষে কষ্ট করে রওনা দিলাম ৪র্থ শ্রেণির একজনকে পড়ানোর জন্যে পাশের গ্রামেই। মাঝে কোন দোকান নেই। যাও একটা আছে সেটাও চিপ্সের দোকান। এখন খালি পেটে যদি চিপ্স খাই,অবস্থার যে ১২ টা বেজে যাবে এইটা কনফার্মই ছিল। 

তাই এই দুঃসাহসটা আর করলাম না। গেলাম পড়াতে। যাওয়ার পথে মনে মনে শুধু রিজিকদাতার কাছে এই প্রার্থনাই করেছিলাম ভাবী(স্টুর মা) আজ যেন চায়ের সাথে একটু হেভি নাস্তা দেন(সচরাচর চায়ের সাথে বিস্কুট দেন)!

যাই হোক। বাসায় গেলাম যথারীতি পড়ানো শুরু করলাম। কিন্তু এ কী!
পড়াতে পড়াতে ছুটি দেওয়ার সময় চলে আসলো আজ দেখি ভাবী চা'টুকুও দিয়ে গেলো না! 

ছুটি দেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে "এই দুনিয়ায় কষ্টের বুঝি এই পরিনতিই হয়!"

-নিজেরে মনে মনে যখন এমন ধিক্কার দিচ্ছিলাম ঠিক তখনই ভাবী এসে বললো,
"স্যার একটু বসেন"! ২ মিনিট পর দেখি সিয়াম(স্টু) ভাতের প্লেইট,গ্লাস আর জগ নিয়ে রুমে ঢুকলো।

-এই দৃশ্য দেখে সাথে সাথে আসমান থেকে পড়লাম। বেশ ভালোভাবে মাথায় একটা বারি খাইলাম।চিন্তা করতে লাগলাম নিশ্চয়ই আমি পড়ানোর সময় বেহুশের মত "আজকে চা না দিয়ে ভাত দিবেন, খুব ক্ষুধা লাগছে!"

-বলেছি। তা নাহলে ভাত নিয়ে সিয়াম রুমে ঢুকবে কেন?এমন তো হওয়ার কথা না নাহলে!

মাথার চিন্তা শক্তি আর কাজ করছে না। কী হচ্ছে আমার সাথে বুঝতেছিলাম না। এমন তো কখনও হয় নি আমার সাথে। এবার ভাবী গোশতের প্লেইট নিয়ে ঢুকলেন। বললেন, "আজ বাসায় কিছু লোক খাওয়াচ্ছি।এশার নামজ শেষে কয়েকজন হুজুর আসবেন।আপনাকে আগে বললে খেতে মানা করতেন তাই বলি নি! নিন হাত ধুয়ে নিন!"

আমি আর মানা করতে পারি নি। একে তো পেটের মধ্যে পোকা দৌঁড়াচ্ছে।তার উপর একটা বিশেষ উপলক্ষে দাওয়াত খাওয়াচ্ছেন। খেতে মানা করাটা বড্ড বেমানানই হবে।

যখন খাওয়া শুরু করলাম, বললে বিশ্বাস করবেন না চোখের কোণে অশ্রু জমা হয়ে গিয়েছিল।

আমরা কতই না দ্রুত মহান সৃষ্টিকর্তার নিয়ামতকে অস্বীকার করে ফেলি।অল্পেতে উনার উপর থেকে ভরসা হারিয়ে ফেলি এটা জানার পরেও যে দুনিয়ার একমাত্র রিজিকদাতা মহান আল্লাহ তা'লা।

 "রিজিক পূর্ব নির্ধারিত, রিজিক দিয়েই মহান আল্লাহ তা'লা আমাদের এই দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। নির্ধারিত জীবিকা আসবেই। কেউ তার রিজিক ভোগ না করে মৃত্যুবরণ করবে না।

উদাসীনতা: আল্লাহতায়ালার জিকির থেকে উদাসীনতা মানুষের রিজিকের বরকত উঠিয়ে নেয়

সেদিন একটা শিক্ষা অর্জন করলাম,
"বান্দা যখন অন্তর থেকে বিধাতার কাছে কিছু চায়,বিধাতা সেটা দিয়ে একটুও কার্পন্য করেন না। আর রিজিক? সেটা তো ভাই পূর্ব নির্ধারিত। এই রিজিক বা জীবিকা চাকরি, ব্যবসা বা চাষাবাদের মাধ্যমে আসে না। রিজিক আসে উপর থেকে।যার সিদ্ধান্ত হয় আসমানে একমাত্র মহান সৃষ্টিকর্তার মাধ্যমে।"

(বিঃদ্রঃ নিচের নাস্তাগুলো খাবার খাওয়ার পর দেওয়া)

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.